আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় সংগীতশিল্পীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, ঘনাচ্ছে রহস্য।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইন্দোনেশিয়ার বিনোদন অঙ্গনে আলোচিত মুখ লুলা লাহফাহ আর নেই। দক্ষিণ জাকার্তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠলেও, ময়নাতদন্ত না করায় বিষয়টি আর এগোচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি লুলার বাসায় প্রথম সন্দেহজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গৃহকর্মী দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ২৬ বছর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইফস্টাইল ও সৌন্দর্যবিষয়ক কনটেন্টের জন্য পরিচিত লুলা লাহফাহ সংগীতজগতেও সক্রিয় ছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে সাউন্ডক্লাউডে জনপ্রিয় গানের কভার প্রকাশ করে পরিচিতি পান তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের লেখা ও সুরে কয়েকটি গানও মুক্তি দেন। ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক মিলিয়ে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৩৩ লাখের বেশি।

মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ৩০ জানুয়ারি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেট্রো জায়া পুলিশের জনসংযোগ প্রধান বুদি হারমান্তো জানান, পরিবারের সম্মতিতে ময়নাতদন্ত না করায় আইনগতভাবে আর তদন্ত চালানোর সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে কোনো দৃশ্যমান আঘাত বা সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

জাকার্তাভিত্তিক গণমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবপিপল ডটকম জানায়, প্রথমদিকে দক্ষিণ জাকার্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত ইউনিট বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা শুরু করেছিল। ঘটনার পর অন্তত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ তালিকায় ছিলেন লুলার প্রেমিক ও জনপ্রিয় ব্যান্ড উইয়ার্ড জিনিয়াসের সদস্য রেজা অক্টোভিয়ান। পুলিশ জানায়, ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি সমনের পর থানায় হাজির হন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ, যেখানে তাকে ৩০টির মতো প্রশ্ন করা হয়।

দক্ষিণ জাকার্তা মেট্রো পুলিশের অপরাধ তদন্ত ইউনিটের প্রধান একেবিপি ইসকান্দারসিয়াহ জানান, শুরুতে রেজাকে সন্দেহভাজন হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্ত না হওয়ায় মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ সম্ভব হয়নি।

ফলে তরুণ এই গায়িকা ও কনটেন্ট নির্মাতার মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

মতামত দিন