আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল ১১ দেশের কড়া প্রতিবাদ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাসহ মোট ১১টি দেশ এই ঘটনাকে নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছে।


আলজাজিরার বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এক যৌথ বিবৃতিতে বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, পর্তুগাল, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের উচিত ইউএনআরডব্লিউএর স্থাপনায় সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম দুর্বল করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এটি শুধু একটি মানবিক সংস্থার ওপর আঘাত নয়, বরং জাতিসংঘ ব্যবস্থার প্রতিও চরম অবমাননা।

গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইউএনআরডব্লিউএর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। সংস্থাটির বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি ইসরায়েল। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় খাদ্য, চিকিৎসা, পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে ইউএনআরডব্লিউএ সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে। এ কারণেই সংস্থাটির কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর করবে।

এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। গত ডিসেম্বরে সেই আইনের কঠোর প্রয়োগ শুরু হলে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশ্যে নিন্দা জানান।

ইউএনআরডব্লিউএর মহাপরিচালক ফিলিপ লাজারিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এটি একটি জাতিসংঘ সংস্থার ওপর সরাসরি ও অভূতপূর্ব হামলা। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইসরায়েলের দায়িত্ব ছিল সংস্থাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেওয়া রায়েরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই রায়ে ইসরায়েলকে ইউএনআরডব্লিউএর ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং তাদের কাজ সহজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মতামত দিন