আর্জেন্টিনায় গড়ে উঠছে বিশ্বের অন্যতম বড় স্টেডিয়াম।
ফুটবল যেখানে শুধু খেলা নয়, জাতিগত আবেগ—সেই আর্জেন্টিনায় নতুন এক ইতিহাস লিখতে যাচ্ছে রিভার প্লেট। দেশটির সবচেয়ে পরিচিত ক্লাবটি তাদের ঘরের মাঠ মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামকে বিশ্বমানের সুপার স্টেডিয়ামে রূপ দিতে বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রিভার প্লেটের সভাপতি স্তেফানো দি কার্লো জানান, স্টেডিয়ামটির পুরো গ্যালারি কাঠামোর ওপর ছাদ যুক্ত করা হবে এবং দর্শক ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। তার ভাষায়, এটি ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
সংস্কারকাজ শেষ হলে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে একসঙ্গে বসতে পারবেন প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার দর্শক। এর ফলে এটি ক্লাব ফুটবলের ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে পরিণত হবে। এই তালিকার শীর্ষে থাকবে স্পেনের বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যূ।
বর্তমানে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা থাকা এই স্টেডিয়ামে যুক্ত হবে অতিরিক্ত ১৬ হাজার আসন। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা শেষ হতে সময় লাগবে আনুমানিক তিন বছর।
চারবারের কোপা লিবার্তাদোরেস জয়ী রিভার প্লেট জানিয়েছে, স্টেডিয়ামের ছাদ ও কাঠামোগত নকশার কাজে তারা জার্মান প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান শ্লাইখ বার্গারমান পার্টনারের সঙ্গে কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠান এর আগে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার একাধিক আইকনিক স্টেডিয়াম প্রকল্পে যুক্ত ছিল।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হওয়ার আগেই মনুমেন্টালের এই রূপান্তর সম্পন্ন করা যাবে। দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন হলেও, ভবিষ্যতে বড় ম্যাচ ও কনসার্ট আয়োজন থেকে অর্জিত আয়ে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
দি কার্লোর মতে, এই প্রকল্প শুধু একটি স্টেডিয়াম উন্নয়ন নয়—এটি রিভার প্লেটকে আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ভেন্যুগুলোর একটিতে পরিণত করার কৌশলগত পদক্ষেপ।

মতামত দিন