বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করলো ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে বাণিজ্যিক স্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তাতে নতুন করে ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখছে না। তার ভাষায়, চুক্তি অনুমোদনে বিলম্বই এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ।
তবে সিউল জানিয়েছে, শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আগে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তারা পায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো হবে। এরই মধ্যে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জুং-কোয়ান যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে তিনি মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়েছে।
এই অবস্থান পরিবর্তন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কয়েক মাস আগেই দুই দেশ একটি বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সমঝোতায় পৌঁছেছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কমে আসে এবং শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। গত অক্টোবরে ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের বৈঠকের পর সেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়।
চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি ও ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যে শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনা হয়। নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে গাড়ি শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। ফলে শুল্ক বৃদ্ধি হলে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানিকারকরা জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারেন, কারণ ওই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চুক্তি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
এখন পর্যন্ত শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়াকে ঘিরে এই বক্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কঠোর বাণিজ্যনীতিরই অংশ। এর আগে কানাডা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশকেও তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, যার কিছু পরে প্রত্যাহার করা হয়।

মতামত দিন