মিয়ানমারে বিয়ে ও প্রার্থনার আসরে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ২৭।
মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। দেশটির দুটি পৃথক এলাকায় আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠান এবং একটি প্রার্থনাসভায় হামলায় মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও বিদ্রোহী সূত্র।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ‘দ্য ইরাবতী’-র প্রতিবেদনে বলা হয়, কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের অন্তর্গত একটি গ্রামে শেষকৃত্যের প্রার্থনা চলাকালে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অন্তত ২২ জন। কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) জানিয়েছে, ওই গ্রামটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত।
এদিকে একই দিনের সকালে মগওয়ে অঞ্চলের একটি গ্রামে অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠানে জান্তা বাহিনীর জেট বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় একটি শিশুসহ কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির আঙিনায় একাধিক নারী ও পুরুষের মরদেহ ছড়িয়ে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই স্থানে শেষকৃত্যের প্রার্থনা চলছিল।
কেআইএ’র মুখপাত্র কর্নেল নউ বু অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় ওই গ্রামে কোনো বিদ্রোহী যোদ্ধা উপস্থিত ছিল না। তা জেনেও জান্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তার ভাষায়, “জান্তা সরকার এখন আর বেসামরিক ও প্রতিপক্ষের মধ্যে পার্থক্য করছে না। স্কুল, বিয়ে কিংবা ধর্মীয় সমাবেশ—সবকিছুই তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।”
এই হামলা নতুন করে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন