আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

আমরা না থাকলে, এখন তোমরা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতে:দাভোসে ট্রাম্প।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, “আমরা না থাকলে, এখন তোমরা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতে।

ফোরামের পর কূটনীতিকরা জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য অনেকের কাছে আধিপত্যমূলক ও আপত্তিকর মনে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের ভাষণে আরও উল্লেখ আছে, ইউরোপের নীতি বর্তমানে সঠিক পথে এগোচ্ছে না। আগেও তিনি একই রকম মন্তব্য করেছেন, কিন্তু এবার মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের কারণে এর প্রভাব আরও প্রবল হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপের নির্দিষ্ট আটটি দেশের ওপর প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে আলোচনা শেষে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের জন্য একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন মন্তব্য করেছেন, প্রেসিডেন্টের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট। সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি ইতিবাচক হলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ন্যাটো সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে আলোচনা চলবে। লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতি প্রতিহত করা। আলোচনার সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও দূত স্টিভ উইটকফ এই আলোচনায় অংশ নেবেন।

এর আগে দাভোসে তিনি নিশ্চিত করেছেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র কখনো সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না। “অনেকে ভাবছিলেন, আমি বলপ্রয়োগ করব, কিন্তু আমি তা করব না,” ট্রাম্প বলেন।

বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দুই মাসে সর্বোচ্চ একদিনের উত্থান পেয়েছে। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে সুর নরম হলেও গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরোধ এখনও মীমাংসিত হয়নি। গ্রিনল্যান্ডের সরকার এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি।

মতামত দিন