আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

দাভোস যাত্রায় যান্ত্রিক বিঘ্ন, মাঝপথে ফিরে এলো ট্রাম্পের বিমান।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপ সফর শুরুতেই অপ্রত্যাশিত জটিলতায় পড়ে। নির্ধারিত গন্তব্য সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি মাঝআকাশ থেকেই ঘুরিয়ে নিতে হয়।

মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রেসিডেন্ট, তাঁর সফরসঙ্গী এবং সংবাদমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে উড্ডয়ন করা বিমানটি প্রায় এক ঘণ্টা আকাশে থাকার পর আবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাকালে বিমানে একটি বৈদ্যুতিক সমস্যার বিষয়টি ধরা পড়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান, ত্রুটিটি বড় কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি না করলেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরে বিকল্প ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরেকটি বিমানে করে সফর চালিয়ে যান। তিনি একটি এয়ার ফোর্স সি-৩২ বিমানে করে মধ্যরাতের পর দাভোসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এটি মূলত পরিবর্তিত বোয়িং ৭৫৭ মডেলের একটি বিমান, যা সাধারণত তুলনামূলক ছোট পরিসরের রাষ্ট্রীয় ভ্রমণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

নতুন এই ফ্লাইটটি আগের সূচির তুলনায় দুই ঘণ্টারও বেশি দেরিতে যাত্রা শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সব নিরাপত্তা যাচাই শেষ করেই পুনরায় উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, নীল-সাদা রঙের পরিচিত নকশার এয়ার ফোর্স ওয়ান কেবল একটি বিমান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। বর্তমানে এই বহরে থাকা দুটি প্রধান বিমান প্রায় চার দশক ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এগুলোর পরিবর্তে নতুন প্রজন্মের বিমান তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে বোয়িং। তবে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা ও বিলম্বের মুখে রয়েছে। বর্তমান এয়ার ফোর্স ওয়ানগুলোতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং বিকিরণ সুরক্ষা ব্যবস্থা সংযুক্ত রয়েছে, যা প্রেসিডেন্টকে যেকোনো পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগে সক্ষম রাখে।

এর পাশাপাশি জানা গেছে, গত বছর কাতারের শাসক পরিবারের পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ জেট বিমানকে ভবিষ্যতে এয়ার ফোর্স ওয়ান বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে বিমানটিকে কঠোর নিরাপত্তা মান অনুযায়ী রূপান্তরের কাজ চলছে।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জার্মানি যাত্রাপথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিমানটি ওয়াশিংটনে ফিরে আসে। আর অক্টোবরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বহনকারী একটি সামরিক বিমান যুক্তরাজ্যে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়, যখন বিমানের সামনের কাচে ফাটল দেখা দেয়।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং নিউজ

মতামত দিন