আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক তৎপরতা জোরদার, পিটুফিক ঘাঁটিতে বিমান পাঠানোর ঘোষণা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে কৌশলগত তৎপরতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে সামরিক বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নর্থ আমেরিকান এয়ারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ প্রতিরক্ষা সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়—নোরাডের বিমানগুলো শিগগিরই গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছাবে।

নোরাডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মোতায়েন নতুন কোনো উদ্যোগ নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ডেনমার্কের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় পূর্বনির্ধারিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, ডেনমার্ক সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও কূটনৈতিক অনুমোদনের পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

নোরাডের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তর আমেরিকার আকাশ ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিয়মিত ‘ডিসপার্সড অপারেশনস’-এ এই বিমানগুলো ব্যবহৃত হবে।

পিটুফিক স্পেস বেস, যা আগে থুলে এয়ার ফোর্স বেস নামে পরিচিত ছিল, গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।

এদিকে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা করে বাস্তব প্রয়োজন নেই। কারণ নোরাডসহ বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্য দিয়েই ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে অঞ্চলটির নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটি আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান, সম্ভাব্য খনিজ সম্পদ এবং রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

তবে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের প্রস্তাব ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় পক্ষই বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং দ্বীপটির ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মতামত দিন