আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির নিচে চাপা পড়ল ছাত্র, পাশে পড়ে থাকল মরদেহ—মাছ লুটে ব্যস্ত জনতা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, যেন মানবিকতারই করুণ মৃত্যু—এমন দৃশ্য দেখা গেছে ভারতের বিহার রাজ্যের সীতামারহি জেলায়। দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় প্রাণ হারায় ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্র।
কিন্তু দুর্ঘটনার পর যা ঘটেছে, তা দেশজুড়ে নিন্দার জন্ম দিয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিশুটির নাম রিতেশ কুমার। স্থানীয়রা তাকে গোলু নামেই চিনত। পুপরি থানার ঝাঝিহাট গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ দাসের ছেলে রিতেশ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। শুক্রবার সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার সময় একটি মাছবোঝাই পিকআপ ভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি থেকে মাছ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। আর তখনই দৃশ্যপট বদলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, শিশুটির নিথর দেহ কাছেই পড়ে থাকলেও বহু মানুষ সাহায্যের হাত বাড়ানোর বদলে মাছ কুড়িয়ে নেওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

কেউ অ্যাম্বুলেন্স ডাকেনি, কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি—বরং অনেককে বস্তায় ভরে মাছ নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়। কিছু সময় পর নিহত শিশুটির পরিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা ছেলের মরদেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিড় সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রিতেশের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের আচরণ নিয়েও তদন্তে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

মতামত দিন