যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানের আকাশপথ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে সেনা পুনর্বিন্যাস।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরান তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, আর একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার একটি তালিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াতে পারে—তা নিয়ে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।
এর মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি ঘোষণা দিয়েছেন, যারা রাজপথে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতায় জড়িত—তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকার আপাতত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
যুদ্ধ এড়াতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছিল, সেটিও বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত আলোচনাগুলো বাতিল করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়মিত সামরিক হুমকির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সংলাপের পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়।
ইরান ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জার্মানির বার্লিনে হাজার হাজার প্রবাসী ইরানি রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সত্তরের দশকের ইসলামী বিপ্লবের পর বর্তমান পরিস্থিতিই ইরানের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকট। অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে জন্ম নেওয়া ক্ষোভ এখন সরাসরি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ির মধ্যেও প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এ অবস্থায় ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করে দিয়েছে। তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে হামলার কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না।
মতামত দিন