আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানে ইরানে নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি তেহরানের।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইরানজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে অভিযানের সময় এখন পর্যন্ত ১০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রোববার রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়, শুধু ইসফাহান প্রদেশেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী কমান্ডের স্পেশাল ইউনিটের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশের বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ অভিযানে আরও আটজন সদস্য নিহত হন।

আধা-সরকারি সনিম সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিহত নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯ জনে। অন্যদিকে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশের রাজধানী গোরগানে তাদের একটি ত্রাণ স্থাপনায় হামলার সময় একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।

দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে গিয়ে হতাহতের এ তথ্য প্রকাশের মধ্যেই সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দাঙ্গামূলক পরিস্থিতি’ ধীরে ধীরে কমে আসছে। তবে একই সময়ে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ইরানের জনগণ স্বাধীনতা চাইছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। যদিও কীভাবে সেই সহায়তা দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

এর আগে বিক্ষোভকারীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও বলেন ট্রাম্প। এই প্রেক্ষাপটে রোববার পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে কোনো সামরিক হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয়ই ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবে। কালিবাফ বলেন, ‘ইরানের ওপর আক্রমণ হলে অধিকৃত অঞ্চল এবং সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের লক্ষ্য হবে।’

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক কমান্ডার কালিবাফের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বিক্ষোভের ভেতরেই দেশটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাতের আশঙ্কার দিকেও এগোচ্ছে।

মতামত দিন