ইউক্রেন ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল রাশিয়া।
ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ান বিমান বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে কাস্পিয়ান সাগরের নিকটবর্তী কাপুস্তিন ইয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ‘ওরেশনিক’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।
মস্কোর দাবি, শব্দের গতির ১০ গুণেরও বেশি বেগে আঘাত হানতে সক্ষম ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কার্যত অসম্ভব। এতে একসঙ্গে ছয়টি ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা রয়েছে এবং প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্রও বহন করতে পারে। প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরত্বে বিনা বাধায় পৌঁছাতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে আঘাত হানতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ক্রেমলিন আরও জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যম-পাল্লার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।
ইউক্রেনের অভিযোগ, এই হামলার ফলে রাজধানী কিয়েভের বড় একটি অংশে তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শহরের প্রায় অর্ধেক আবাসিক ভবন কার্যত তাপবিহীন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো।
এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইউক্রেন দাবি করেছে, বেসামরিক জনগণের ওপর হামলার মাধ্যমে রাশিয়া যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। সোমবার এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: সানডে গার্ডিয়ান

মতামত দিন