অনুমতি ছাড়া হজের চেষ্টা, ভিজিট ভিসাধারী ৪২ জন আটক।
আগামী ৬ জুন শুরু হচ্ছে হজ। এর আগে হজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়াই হজ পালনের চেষ্টা করা এসব ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য জারি করা স্পষ্ট নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছেন। হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরিচালিত একটি নিরাপত্তা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
একই সঙ্গে যারা এই অবৈধ হজযাত্রীদের মক্কায় প্রবেশে সহায়তা করেছে—যেমন যাতায়াত, আশ্রয় বা অন্যান্যভাবে সহায়তা দিয়েছেন—তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এসব অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের কারাদণ্ড, মোটা অঙ্কের জরিমানা, অভিযুক্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং দেশ থেকে নির্বাসনের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে সরকার।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হজ মৌসুমকে ঘিরে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে কঠোর জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালনকারীদের সর্বোচ্চ এক লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ২৬ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা এবং সৌদি আরবে ১০ বছর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া কেউ যদি ভিজিট ভিসা ব্যবহার করে নিজে হজ পালন করেন বা অন্যকে সহায়তা করেন, তার বিরুদ্ধেও একই মাত্রার শাস্তি কার্যকর হবে। হজ মৌসুমে ভিজিট ভিসায় মক্কা বা পবিত্র স্থানগুলোতে কাউকে বহন, আশ্রয়, লুকিয়ে রাখা কিংবা যেকোনো সহযোগিতার ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির মাত্রা বাড়তে থাকবে। যারা সৌদি আরবে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বা সময়োত্তীর্ণ ভিসা থাকা অবস্থায় হজ পালনের চেষ্টা করছেন, তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে ১০ বছর সৌদিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
চলতি বছর ৬ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় হজ শুরু হয়ে ১১ জুন (বুধবার) পর্যন্ত চলবে। হজ শেষ হওয়ার পরপরই ৮ জুন (রোববার) ঈদুল আজহা পালিত হবে, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।
মতামত দিন