আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয়ভাবে তৈরি ‘তাইমূর’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে পাকিস্তান।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:


পাকিস্তান এয়ার ফোর্স (পিএএফ) সম্প্রতি দেশীয়ভাবে তৈরি ‘তাইমূর’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র, যা ৬০০ কিলোমিটার দূরের স্থল ও সমুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রায় ৮০ শতাংশ উপাদান স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত।

পাক-আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এই পরীক্ষা ভারত থেকে উদ্ভূত আঞ্চলিক হুমকির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে করা হয়েছে। পরীক্ষাটি মিরাজ থ্রি ইইএ রোজ (Mirage IIIEA ROSE) ফাইটার-বোম্বার থেকে পরিচালিত হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, তাইমূর প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং নিম্ন উচ্চতায় উড্ডয়ন করে শত্রুর রাডার এড়িয়ে যেতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্নত ন্যাভিগেশন ও গাইডেন্স প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা একে ১০০ মিটারের নিচে উড্ডয়ন করতে সক্ষম করে। এর ফলে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল করার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। আঘাতের নির্ভুলতা প্রায় ১০ মিটারের কম, যা নৌযান বা কমান্ড সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত নিশ্চিত করে।

এই সিস্টেমটি ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ ও পাকিস্তানি বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি করা হয়েছে। এটি বাবর ও রা’দ ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যেগুলোর পাল্লা যথাক্রমে ৭০০ কিলোমিটার ও ৫৫০ কিলোমিটার। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি পাকিস্তানের বিদেশি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানীরা। চিফ মার্শাল পাকিস্তানি দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাইমূরের সাফল্য দেশের আত্মনির্ভরশীলতার প্রতিফলন এবং বিমান বাহিনীর গভীর আঘাত ক্ষমতা বাড়াবে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও এই অর্জনকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সূত্র: ডন

মতামত দিন