আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

হামাসের সামনে কাতার-মিসরের যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব।

গাজায় চলমান সংঘাতের অবসানে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে কাতার ও মিসর। এই দুই দেশের মধ্যস্থতায় হামাসের সামনে যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তাতে পাঁচ থেকে সাত বছর মেয়াদি একটি যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে সব ইসরায়েলি জিম্মিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ইতি টেনে ইসরায়েলের গাজা থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কথাও উল্লেখ আছে।

কিন্তু এমন এক সময় এই প্রস্তাব এসেছে, যখন ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে গাজায় স্থায়ী সেনা উপস্থিতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১৬ এপ্রিল দেওয়া বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “গাজা এখন থেকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে থাকবে। সেখানে আমাদের সেনারা সবসময় থাকবে—যেমনটা লেবানন বা সিরিয়া সীমান্তে রয়েছে।”

এর আগেই, ১৯ জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি ভেঙে ১৮ মার্চ গাজায় আবারও অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে ইসরায়েলের কার্যকলাপেই যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে, সেখানে তারা কিভাবে নতুন কোনো সমঝোতায় সম্মত হবে?

এদিকে, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রস্তাব নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি গাজা উপত্যকাকে বিলাসবহুল একটি ‘রিভিয়েরা’ বানানোর কথা বলেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন আঁকা হয়।

ট্রাম্পের এমন প্রস্তাবের পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, সোনা, জ্যাকুজি ও কোল্ড প্লাঞ্জ সুবিধাসহ ঘরবাড়ির বিজ্ঞাপন ছড়াতে শুরু করেছে ইসরায়েলি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রামাত আদেরেট।

আর্থিক তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিচবুকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই কোম্পানিটি তহবিল পেয়েছে ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক অফ ইসরায়েল থেকে।

পশ্চিম তীরের মা’আলে আদুমিম ও ইফরাতের বসতিতে আরও ৪৮টি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে গাবাই রিয়েল এস্টেট নামের আরেক প্রতিষ্ঠান।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৫২টি বিজ্ঞাপন যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য ক্রেতাদের টার্গেট করে ছড়িয়েছে বিভিন্ন ইসরায়েলি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা সেনা প্রত্যাহারের কোনো স্পষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সমর্থন থাকায় অস্ত্র, গোলাবারুদসহ সামরিক সহায়তায় অনেক সুবিধা ভোগ করছে দেশটি।

এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, জিম্মি উদ্ধারের বিষয়টি আসলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের অংশমাত্র। ইসরায়েলি জনগণের একাংশের মতে, ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন তিনি। এমন মন্তব্য করছেন বিরোধী দলের নেতারাও।

ফলে কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় হামাসকে দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব আদৌ বাস্তব ফল বয়ে আনবে কি না—তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন