আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

চীনের বিরুদ্ধে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ,অভিযোগ ভিত্তিহীন সরাসরি অস্বীকার বেইজিংয়ের।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চীন ইরানকে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে— এমন দাবি  প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। বেইজিং সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুদ্ধরত কোনো রাষ্ট্রে অস্ত্র পাঠায় না এবং এমন কোনো লেনদেন হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ইরান-ইসরায়েল সাম্প্রতিক সংঘাত শেষে চীন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ইরানে পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেল ও অস্ত্র বিনিময়ের এই চুক্তিতে চীন ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়েছে।

তবে এই প্রতিবেদনের কড়া জবাব দিয়েছে ইসরায়েলে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস। হিব্রু ভাষার পত্রিকা ইসরায়েল হায়োম-এ মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা জানায়, “চীন দ্বন্দ্বরত কোনো দেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করে না। আমাদের রপ্তানি নীতিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা হয়।”

চীনা দূতাবাস আরও জানায়, বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র এবং সেগুলোর প্রযুক্তি বিস্তারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ নীতিতে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে চীন তাদের ভূমিকা আরও জোরদার করছে।

এদিকে, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, যদিও তাদের কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গেল মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের এক সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়, যার পর  কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। ইসরায়েল দাবি করে, ইরান পারমাণবিক স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এই প্রেক্ষাপটে, তেহরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়ছে। তারা আশঙ্কা  করছে, ইরান ভবিষ্যতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীন মধ্যপ্রাচ্যে এক ধরনের ‘নিরপেক্ষ অথচ কৌশলগত’ অবস্থান ধরে রেখেছে।  তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে থাকলেও নিজের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে সচেষ্ট।

মতামত দিন