আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

চীনা ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরালো করছে ইরান।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শেষে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও ইসরায়েলের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না ইরান। ফলে সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।
এ লক্ষ্যে চীন থেকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র (এসএএম) সংগ্রহ করেছে দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরপরই ইরানের হাতে চীনা HQ-9 ও HQ-16 ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় চালান পৌঁছেছে। আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানে পৌঁছায়।

ইসরায়েলের স্টেলথ ফাইটারদের সামনে অসহায় অবস্থান দেখার পর এবার আকাশেই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায় ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, চীনা HQ-9 সিস্টেমের আওতায় ইরানের আকাশসীমার ৩০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রবেশ করাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।

সূত্র জানায়, এই চীনা প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করছে ইরান। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে নিয়মিত ইরানি তেল আমদানি করছে, যা দুই দেশের মধ্যে জোরালো কৌশলগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

ইরান এরই মধ্যে রাশিয়ার এস-৩০০, নিজস্ব খোরদাদ ও বাভার-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। তবে মার্কিন এফ-৩৫ এর মতো স্টেলথ জেট প্রতিরোধে এসব সিস্টেম যথেষ্ট নয় বলে মনে করা হয়। HQ-9 ও HQ-16 এর সংযোজন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

সম্প্রতি সংঘর্ষ চলাকালে ইসরায়েল ইরানের ভেতরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক গবেষণা স্থাপনায় হামলা চালায়। পাল্টা হামলায় ইরানও তেলআবিব ও হাইফার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে।

চীন এর আগেও পাকিস্তান ও মিসরের মতো মিত্রদের কাছে এসব আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। এবার ইরানে এসব সরঞ্জাম হস্তান্তরের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন এক রূপরেখা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন