তেলআবিবে জিম্মি মুক্তির দাবিতে হাজারো ইসরায়েলির বিক্ষোভ।
বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েল সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—তারা কোনো অংশিক বা নির্বাচনভিত্তিক বন্দি বিনিময় নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বসম্মত সমঝোতা চান, যাতে জীবিত এবং মৃত—সব ধরনের জিম্মির মুক্তি নিশ্চিত হয়।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে একটি ‘সম্পূর্ণ ও জেনারেল চুক্তি’, যাতে কোনো বন্দিকে উপেক্ষা না করা হয়। অনেকে প্রতিবাদমঞ্চে উঠে বলেন, আর কোনো বিলম্ব নয়—সরকারকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।
এমন সময় সরকার জানায়, বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিতে একটি প্রতিনিধি দল কাতারের রাজধানী দোহায় পাঠানো হচ্ছে। হামাসের পক্ষ থেকে আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের সূত্র বলছে, মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধের ব্যবধান কিছুটা কমে আসছে, যা চুক্তির দিকে অগ্রগতি সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি আন্তর্জাতিক সফরও সামনে এসেছে। রোববার তিনি যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে হারেতজ, যেখানে তার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় অন্তত ৫০ জন ইসরায়েলি নাগরিক হামাসের হাতে বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে জীবিত, বাকিরা নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অনেক বন্দিই বিনা বিচারে আটক এবং তারা স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সংকটে রয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলি সমাজের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মিলে এই চুক্তি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, সেটি নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: ইয়েদিওথ আহরোনোথ, হারেতজ, আনাদলু এজেন্সি
মতামত দিন