আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

নীল নদের উপর ‘মেগা ড্যাম’ নির্মাণ শেষ, উত্তেজনায় মিশর-সুদান।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নীল নদের ওপর বহুল আলোচিত গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁস ড্যাম (GERD) প্রকল্পের নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) এক ঘোষণায় ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এই প্রকল্পের সমাপ্তির খবর জানান।
দেশটির কাছে এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন হলেও, প্রতিবেশী মিশর ও সুদানের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইথিওপিয়া বলছে, GERD প্রকল্প তাদের বিদ্যুৎখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে মিশর ও সুদান আশঙ্কা করছে, এই বাঁধ তাদের পানি নির্ভর কৃষি ও  জনগণের জীবনে চরম প্রভাব ফেলবে।

মিশরের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল। কারণ, দেশটির পানির ৯৭ শতাংশই আসে নীল নদ থেকে। কায়রোর আশঙ্কা, নদের প্রবাহ মাত্র ২ শতাংশ কমলেই অন্তত দুই লাখ একর কৃষিজমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

একইসঙ্গে সুদানও বলছে, বাঁধের কার্যক্রম একতরফাভাবে পরিচালিত হলে তা তাদের পানিবণ্টন এবং কৃষি ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহে কায়রোতে বৈঠকে মিলিত হয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং সুদানের সামরিক নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান একযোগে জানান, ব্লু নাইলের উপর ‘কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত’ গ্রহণ তারা মেনে নেবেন না।

বাঁধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন,  মিশর নাকি বাঁধটি ‘উড়িয়ে দেয়ার’ কথাও ভেবেছিল। দীর্ঘ এক দশকের আলোচনাও কাঙ্ক্ষিত সমাধান দিতে পারেনি।

ইথিওপিয়া বারবার জানিয়েছে, তারা সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়। তবে মিশর ও সুদান বলছে, ইথিওপিয়ার আচরণে কোনো আন্তরিকতা নেই এবং জলাধার পূরণের মতো বড় পদক্ষেপগুলো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পানিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই সময়োপযোগী ও সার্বজনীন চুক্তিই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: বিবিসি নিউজ

মতামত দিন