আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও সহায়তা প্রবেশে একজোট ফ্রান্স-মালয়েশিয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাজা উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে একজোট হয়েছেন ফ্রান্স ও মালয়েশিয়া।প্যারিসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাকরন ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই আহ্বান জানান।

দুই নেতা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ওপর জোর দেন এবং বলেন, মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ রুদ্ধ করে রাখার কোনো নৈতিক বা বৈধ ভিত্তি নেই। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইসরায়েলের উচিত অবিলম্বে গাজায় মানবিক ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশে অনুমতি দেওয়া।” তার ভাষায়, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষার দায় সবাইকে নিতে হবে।

একইসঙ্গে তারা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নেন, যা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন— যাদের  অধিকাংশই নারী ও শিশু। ধ্বংসস্তূপে পরিণত অঞ্চলটিতে দেখা দিয়েছে মারাত্মক খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি সংকট। জাতিসংঘ বলছে, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত, এবং অর্ধেকের বেশি অবকাঠামো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্যে সম্প্রতি ইরানের ওপর আক্রমণের নিন্দা জানান। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “ইরানকে প্রতিরোধ করলেও ইসরায়েলকে ছাড় দিলে সংকট কখনই শেষ হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সব ধরনের সহিংসতার বিরোধী, কিন্তু শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইলে তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।”

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এদিন তাদের অবস্থান আরও একবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট করে দিলেন আনোয়ার।

ম্যাকরন-আনোয়ারের এই যৌথ অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং বিপর্যস্ত গাজাবাসীর জন্য মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া হয়।

সূত্র: আল জাজিরা

মতামত দিন