আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে রাশিয়ার রেকর্ড সংখ্যক ড্রোন হামলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাশিয়া শুক্রবার (৪ জুলাই) ইউক্রেনে নজিরবিহীন ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে, যা তিন বছরের যুদ্ধে কিয়েভে অন্যতম ভয়ংকর হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিমান হামলায় রাজধানীসহ আশপাশের বহু  ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আহত হন অন্তত ২৩ জন।
একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কিয়েভের জরুরি বিভাগ।

রাশিয়ার এই হামলা এমন এক সময়ে এলো, যখন মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধবিরতির আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া এবার ৫৩৯টি ড্রোন ও ১১টি মিসাইল নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ৪৭৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নতুন ড্রোন-ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার মাধ্যমে কমপক্ষে ৬০টি রুশ ড্রোন ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

রাতভর বিস্ফোরণ ও ড্রোনের গর্জনে কিয়েভের আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেন ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন ও পার্কিং লটে। বিভিন্ন এলাকায় ভবনে আগুন লাগে এবং বহুতল ভবন আংশিক ধসে পড়ে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আক্রমণকে “ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা” বলে উল্লেখ করে জানান, রাশিয়া বারবার প্রমাণ করছে, তারা যুদ্ধ থামানোর পথে নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা বলেন, “এ ছিল আমাদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের রাত, এমন ভয়াবহতা খুব কমই দেখেছে কিয়েভ।”

রুশ হামলায় পোল্যান্ডের কনস্যুলেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় ওয়ারশো। এ নিয়ে পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্ল সিকোর্স্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনকে বেশি বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ ও রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ জানিয়েছেন, ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপে রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে যুদ্ধ থামানো রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য নয়, বরং তাদের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করা।

এই রেকর্ড হামলার পর ইউক্রেনের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, কিয়েভের বায়ুদূষণ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। নাগরিকদের ঘরে থাকার ও এয়ার ফিল্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। এক কিয়েভবাসী বলেন,  “পুতিনকে থামানোর একমাত্র পথ শক্ত অবস্থান— যা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি না।”

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মতামত দিন