ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে ইন্দোনেশিয়া।
বুধবার (২ জুলাই) উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় তাদের অস্থায়ী বাসায় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান ডা. মারওয়ান, তার স্ত্রী ও সন্তানরা। বেঁচে যাওয়া কন্যা লুবনা জানান, ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তার বাবার কক্ষে আঘাত হানে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইন্দোনেশিয়ার মেডিকেল ইমার্জেন্সি রেসকিউ কমিটি (MER-C) একে ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
২০০১ সালে পাকিস্তানের লিয়াকত মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডা. মারওয়ান গাজায় দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ জনগণের অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতিষ্ঠিত ইন্দোনেশিয়া হাসপাতালটির তিনি প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন।
ইসরায়েলি আগ্রাসনের শুরু থেকেই হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছেন তিনি। বোমাবর্ষণের মধ্যেও হাসপাতালের জরুরি সংস্কার কার্যক্রম নিজ হাতে তদারকি করতেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যখন হাসপাতাল ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি বাহিনী, তখনও তিনি রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরেই স্থান ত্যাগ করেন।
ডা. মারওয়ানের মৃত্যুতে ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের সদস্যরা এ ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করে বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইসরায়েলকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ইন্দোনেশিয়ার সরকার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানায়।
এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত ৪৯২ জনের বেশি চিকিৎসা-কর্মী নিহত হয়েছেন। শুধু গত ৫০ দিনে ৭০ জন চিকিৎসক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ‘হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়াচ’। তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন ডা. মারওয়ান, যিনি গাজার হৃদরোগ চিকিৎসার প্রধান ভরসা ছিলেন।
ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার। ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালের গবেষণা বলছে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি, কারণ ৪১ শতাংশ মৃত্যুর তথ্য কোনোভাবেই নথিভুক্ত হয়নি। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার কারণেও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
ইন্দোনেশিয়ার মতো একটি মুসলিম প্রধান দেশের একজন নাগরিক ও মানবিক চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে নৈতিক ও আইনি চাপ সৃষ্টি করেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মতামত দিন