সিরিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, সিরিয়াকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে বাদ পড়ছে না সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, রাসায়নিক অস্ত্র প্রকল্পে জড়িত, আইএস সদস্য এবং ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানি এক প্রতিক্রিয়ায় এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, “এই পদক্ষেপ পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য নতুন দ্বার উন্মুক্ত করবে।”
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে আসাদের পতনের পর সিরিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এরপর গত মে মাসে রিয়াদে ট্রাম্প ও সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার মধ্যে বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
মার্কিন বিশেষ দূত থমাস ব্যারাক বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বহুদিনের জটিল আলোচনার ফল এবং এটি সিরিয়াকে পুনর্গঠনের একটি সুযোগ করে দেবে।” তিনি একে “কঠিন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন।
নির্বাহী আদেশে হোয়াইট হাউস পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সিরিয়ার সন্ত্রাসবাদের তালিকাভুক্তি, বিশেষ করে হায়াত তাহরির আল-শামের মতো গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, সিরিয়ার অগ্রগতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক, বিদেশি সন্ত্রাসী উপস্থিতি রোধ এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে সিরিয়ার পদক্ষেপ হবে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সিরিয়ার সাধারণ নাগরিকরা এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কারণ এতে মানবিক সহায়তা, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসেই মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সীমিত লেনদেনের অনুমতি দেয়। তবে এখনো কিছু নিষেধাজ্ঞা, বিশেষ করে ‘সিজার অ্যাক্ট’-সংশ্লিষ্ট বিধি বহাল রয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতে পর্যালোচনার আওতায় আসবে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, নতুন আদেশের মাধ্যমে ২০০৪ সালের জাতীয় জরুরি অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট নির্বাহী আদেশ বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কিছু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পদক্ষেপ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে,যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মতামত দিন