আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানপন্থী হ্যাকারদের পাল্টা সাইবার হামলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ডিজিটাল হামলায় নেমেছে ইরান ঘনিষ্ঠ হ্যাকারদের একাধিক দল। মার্কিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে এই সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।


টার্গেটে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি ও পরিবহন অবকাঠামো। এখনো পর্যন্ত বড় কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় না ঘটলেও—পরিস্থিতিকে ‘সহজে পেরিয়ে যাওয়া’র মতো দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

ডিজিটাল যুদ্ধের দরজায় দাঁড়িয়ে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানপন্থী স্বাধীন হ্যাকার গ্রুপগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশের ডিজিটাল সুরক্ষা ঘাটতি পর্যবেক্ষণ করছে। সুতরাং সামান্য উত্তেজনাই গড়াতে পারে পূর্ণাঙ্গ সাইবার যুদ্ধের দিকে।

টেক উদ্যোক্তা আর্নি বেলিনির ভাষায়, “আমরা আকাশপথে শত্রুকে রুখতে পারি, কিন্তু ডেটার রাজ্যে  আমরা নিতান্ত দুর্বল।”

বিমান সংস্থা থেকে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান—হামলা সর্বত্র

‘মিস্টেরিয়াস টিম’ ও কয়েকটি অজ্ঞাত পরিচয়ের হ্যাকার গ্রুপ ইতোমধ্যে দাবি করেছে—তারা যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি করপোরেট সিস্টেমে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা মূলত সার্ভার ডাউন করার উদ্দেশ্যে (DDoS) পরিচালিত হয়েছে।

তাদের ঘোষণা, “এখন সময় এসেছে জবাব দেওয়ার।”

জোর প্রস্তুতিতে মার্কিন সাইবার সংস্থাগুলো

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও CISA (Cybersecurity and Infrastructure Security Agency) দেশের জ্বালানি, পানি ও পাওয়ার গ্রিড খাতকে সতর্ক করে চিঠি পাঠিয়েছে। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে খাদ্য সরবরাহ চেইন ও অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির ওপরে।

হ্যাকারদের লক্ষ্য আতঙ্ক, বিভ্রান্তি

Trustwave সাইবার গবেষণাকেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে—কমপক্ষে ৬০টি হ্যাকার সেল একযোগে সক্রিয় রয়েছে ইরানের পক্ষে। এদের কেউ সরাসরি সরকারের অধীনে, কেউ আবার স্বাধীন।

সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জিভ মাদোর বলেন, “এই হামলাগুলোর উদ্দেশ্য শুধু তথ্য হাতিয়ে নেওয়া নয়—জনমনে অনিশ্চয়তা ছড়ানো, অর্থনৈতিক ভরাডুবির ইঙ্গিত দেওয়া।”

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও সমালোচনা

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা বাজেট কমিয়ে দেওয়া ও গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের প্রভাব ইতোমধ্যেই বোঝা যাচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার অভ্যন্তরে দুর্বলতা সৃষ্টি হচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলো।

ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে কোড দিয়ে

আর্নি বেলিনি সতর্ক করেন, “ডিজিটাল প্রতিরক্ষার চেয়ে বড় কিছু এখন নেই। আমরা যদি এই যুদ্ধে হেরে যাই, তাহলে আধিপত্য হারানো শুধু সময়ের ব্যাপার।”

মতামত দিন