আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

কেন রাশিয়া ইরানকে সরাসরি সহায়তা করছে না ব্যাখ্যা দিলেন পুতিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তেহরান যখন কৌশলগত সহযোগিতা পেতে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকিয়ে, তখন রাশিয়ার সতর্ক নীরবতা নিয়ে শুরু হয় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নানা প্রশ্ন। অবশেষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

রুশ বার্তা সংস্থা ‘তাস’-এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের এক আলোচনায় পুতিন বলেন— রাশিয়া সংঘাতের এই মুহূর্তে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ— দুই অঞ্চলে বসবাসরত রুশভাষীদের জন্য অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ রুশভাষী ইসরায়েলে বসবাস করছেন। এই বাস্তবতা আমাদের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হবেই। ইসরায়েল এখন কার্যত একটি রুশভাষী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।”

পুতিন আরও জানান, রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, এবং দেশটি ওআইসি’র পর্যবেক্ষক সদস্য হওয়ায় মুসলিম বিশ্বের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করাও রাশিয়ার দায়িত্বের অংশ। “এই দুটি পক্ষের সঙ্গেই আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক। কাজেই উত্তেজনার এই পর্যায়ে সরাসরি একপাক্ষিক অবস্থান নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

ইরান অবশ্য এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা আগে থেকেই আলোচনায় ছিলাম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেই পথ বন্ধ করেছে। এখন প্রতিশোধের পর আলোচনার চিন্তা হবে।”

প্রসঙ্গত, ২১ জুন মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান অঞ্চলে চালানো বাঙ্কার-বাস্টার হামলায় তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ট্রাম্প প্রশাসন একে ‘পূর্ণ সামরিক সফলতা’ হিসেবে অভিহিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই কৌশলী নিরপেক্ষতা কেবল তেহরান নয়, ইসরায়েল এবং পশ্চিমা শক্তির প্রতিও একধরনের ভারসাম্য রক্ষা। এটি ভবিষ্যতে কোনো আলোচনার টেবিলে মস্কোর ভূমিকা আরও জোরালো করার কৌশলও হতে পারে।

মতামত দিন