আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে হামলা, ট্রাম্পের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর দেশটির অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ হামলা চালিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের একাধিক প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা।

ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসওমেন রাশিদা তালিব এ হামলাকে সরাসরি ‘সংবিধান লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমেরিকার জনগণ নতুন আর  কোনো চিরস্থায়ী যুদ্ধ চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের অতীত যুদ্ধগুলো কী পরিণতি এনেছে, তা আমরা দেখেছি। এবার সেই একই পথ মাড়ানো হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”

ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশে তালিব বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দেশের জনগণের কথা শোনার বদলে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর মতো নেতাদের কথায় চলছে, যারা অতীতে ইরাক নিয়ে মিথ্যা বলেছে, এখন আবার ইরান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। একইসঙ্গে কংগ্রেসকে এখনই যুদ্ধক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরও কয়েকজন সিনেটর ও হাউস প্রতিনিধি—বিশেষ করে বার্নি স্যান্ডার্স, অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ এবং প্রমুখ যুদ্ধবিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী নেতারাও আকার-ইঙ্গিতে এই অভিযানের নিন্দা করেছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের এই বিরোধ আগামী মাসগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অবস্থান আগামী নির্বাচনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে মত দিয়েছেন ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষক জন রিচার্ডসন।

এই হামলার পর মার্কিন রাজনৈতিক মঞ্চে যুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নতুন করে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো জোর দিয়ে বলছেন, “এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক ও সফল পদক্ষেপ।” তবে কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, এটি ছিল ‘অভিযোগহীন একক সিদ্ধান্ত’, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মতামত দিন