আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সশস্ত্র উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রশ্ন উঠেছে— কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া তিনি কি ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে পারেন?

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশে যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, পূর্বের অনেক প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ট্রাম্প যেন এমন পথে না হাঁটেন, সে জন্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন কংগ্রেসম্যান রো খান্না ও থমাস ম্যাসি। এতে বলা হয়েছে,কংগ্রেসের পূর্বানুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ চালাতে পারবেন না। এই প্রস্তাব বর্তমানে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে রয়েছে, এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবেচনা না হলে তা সরাসরি কংগ্রেসের সাধারণ সভায় উত্থাপন করা হবে।

সিনেটর ক্রিস ভ্যান স্পষ্ট করে বলেছেন, “এটা আমেরিকার যুদ্ধ নয়, এবং প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে কোনো সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন না।”

রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক মহলেও উদ্বেগ স্পষ্ট। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ ইরান বন্ধ করে দিতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিশাল ধস নামবে, যা পুরো অর্থনীতিকেই অস্থিতিশীল করতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় সম্প্রতি ইসরায়েল হামলা চালালে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঘাত হানে ইরান। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা যখন প্রকট, তখন যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে এগোয়— তা নির্ধারণ করবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

মতামত দিন