ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আরব বিশ্ব:সমর্থন নয়,বরং সতর্কতা ও নিন্দায় সীমাবদ্ধ প্রতিক্রিয়া।
জর্ডানের দ্বৈত ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া
জর্ডান ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিয়মিতভাবে নিজের আকাশসীমায় ভূপাতিত করছে। এমনকি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোকে ইরানে হামলার সময় জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ দ্বিতীয় বলেন,
"ইসরায়েল তার হামলার পরিসর ইরান পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এই যুদ্ধ কতদূর গড়াবে বলা কঠিন। এটি বিশ্বব্যাপী মানুষের জন্য হুমকি।"
বাদশাহর মন্তব্যে ইরানের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও ইসরায়েলের প্রতি নীরব সহায়তার অভিযোগ থেকে জর্ডান মুক্ত হতে পারছে না।
কাতারের সতর্ক কূটনীতি:
কাতার সরাসরি ইরানের পক্ষ না নিলেও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন,
"এই অঞ্চলের পারমাণবিক বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিণতি হতে পারে কল্পনার বাইরে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এটা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।"
কাতার আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যেন এই সংঘাত নিরসনের উপায় খোঁজা যায়।
আমিরাতের সতর্কবার্তা:
সংযুক্ত আরব আমিরাতও সরাসরি অবস্থান না নিয়ে উভয়পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ বলেন,
"অপরিকল্পিত ও বেপরোয়া পদক্ষেপে সংঘাত সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে।"
তিনি জানান, আমিরাত উভয় দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রেখেছে।
সিরিয়ার নীরবতা:
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। যদিও অতীতে দেশটি ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল, বর্তমান সংঘাতে তারা নীরব কূটনীতি অবলম্বন করছে।
যৌথ আরব-মুসলিম বিবৃতি:
এদিকে সোমবার ২১টি আরব ও মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তবে তা মূলত কূটনৈতিক ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বানে সীমাবদ্ধ।
বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট:
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আরব বিশ্ব একটানা সুনির্দিষ্ট পক্ষ নেয়নি। অতীতের মত গাজা বা লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় যে সমবেত প্রতিক্রিয়া দেখা যেত, ইরান প্রসঙ্গে তেমন দৃঢ় অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন:
-
ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে আরব বিশ্বের উদ্বেগ
-
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক
-
নিজস্ব আঞ্চলিক নিরাপত্তার চিন্তা
-
ইরানের হিজবুল্লাহ, হুথি ও অন্যান্য গোষ্ঠীর মাধ্যমে হস্তক্ষেপে বিরক্তি
ফলে, আরব দেশগুলো এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে, যা ইরানকে বাস্তবে কোনো সামরিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করছে।

মতামত দিন