ইরানি হামলার মানসিক অভিঘাতে বিপর্যস্ত ইসরায়েলিরা।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশজুড়ে কার্যত এক ধরনের মানসিক জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। বোমা শেলটারে দিন কাটানো পরিবারগুলোর শিশু ও বৃদ্ধরা চরম উদ্বেগে ভুগছেন। কেউ কেউ রাত কাটাচ্ছেন ঘুমের ওষুধে, কেউ আবার ভিডিও কলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
বাড়িঘর ধ্বংস, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সাইরেন, আর হামলার শঙ্কায় তটস্থ শহরের মানুষ এক অচেনা বাস্তবতায় বাস করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এক ইসরায়েলি বাসিন্দা বলেন,“এই বাড়িতে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে থাকছি। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেলো। কেবল জানি, আমরা কিছু করিনি।”
সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৪ ঘণ্টা মানসিক সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একইসাথে, অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শের সুযোগও দিচ্ছে প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে পিটিএসডি (Post-Traumatic Stress Disorder) বা মনস্তাত্ত্বিক ট্রমার আশঙ্কা প্রবল।
আবারো এক বাসিন্দার কণ্ঠে শোনা যায় চরম হতাশা—“এর একটা শেষ দরকার। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান,ইসরায়েল—কেউ যেন থামছে না। আমরা সাধারণ মানুষ এর খেসারত দিচ্ছি।”
এ পর্যন্ত ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্বে ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। আহত হয়েছেন বহু। ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনও পূর্ণভাবে উঠে আসেনি, তবে সামাজিক ও মানসিক অভিঘাত দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন