ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে কেঁপে উঠল ইসরায়েল, নিহত অন্তত ১০, আহত শতাধিক।
শনিবার দিবাগত রাতে হাইফা, তামরা, তেলআবিব ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হাইফার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি জ্বালানিকেন্দ্রে বিস্ফোরণের ফলে সেখানে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ওই কেন্দ্রের অধিকাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়। আশপাশের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানলে তিনজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।
এছাড়াও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় একাধিক বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনা। ইরান দাবি করেছে, তাদের হামলায় হাইফার জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রায় অচল হয়ে গেছে।
এই পাল্টা হামলা ইসরায়েলের আগের এক অভিযানের জবাব বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় গ্যাসক্ষেত্র এবং বন্দর আব্বাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয় শাহরান জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক স্থাপনা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “তেহরানে ঢোকার পথ আমরা খুঁজে পেয়েছি। ইরানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতিটি ঘাঁটি ধ্বংস করবো।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ২০ হাজার মিসাইল উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ইসরায়েল কোনোভাবেই তা বাস্তবায়ন হতে দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতানিয়াহু।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

মতামত দিন