তৃতীয় দফা হামলায় রক্তাক্ত তেল আভিভ, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘনীভূত।
এই হামলা ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এসেছে, যেখানে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন। আইআরজিসির দাবি, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হেনেছে। যদিও ইসরায়েলি সরকার এখনো ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করেনি।
তেল আভিভের বাসিন্দারা জানান, রাতভর বিস্ফোরণের শব্দে শহর প্রকম্পিত হয়েছে। অনেকেই বোমা শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন। হামলার কারণে শহরের বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো ইসরায়েলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইরান জানায়, এই সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষামূলক এবং তাদের ভাষায় “ইসরায়েলি আগ্রাসনের যৌক্তিক জবাব”। অপরদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এক জরুরি বৈঠকের পর বলেন, “ইরানকে এর জন্য কঠোর মূল্য দিতে হবে।” দেশটির সামরিক বাহিনীও পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
সংঘাতের এই নতুন অধ্যায়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইতোমধ্যে এক জরুরি বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছে। কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানালেও, পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দু’দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে।
গত কয়েক মাস ধরেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রাক্সি যুদ্ধ, গুপ্তহত্যা ও সাইবার হামলার ঘটনাগুলো বেড়েই চলেছিল। তবে এখন সেটি সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে, যার প্রভাব শুধু অঞ্চলেই নয়—ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনেও।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এখনই দৃশ্যমান ও কার্যকর হস্তক্ষেপ না করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
মতামত দিন