ইসরায়েলের হামলার জবাবে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, "ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিতে আমরা এখন অভিযান পরিচালনা করছি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে নাগরিকদের সুরক্ষিত আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ভোররাতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে একটি সামরিক অভিযানে ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় হামলা চালায়। ওই হামলায় পরমাণু গবেষণাকেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং সামরিক কমান্ড পোস্টগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তেহরানের বিভিন্ন আবাসিক ভবনেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বহু সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসেইন সালামির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
টাইমস অব ইসরায়েলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেন, এই অভিযানে মোসাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তার ভাষায়, “তেহরানে মোসাদের সহায়তায় একটি গোপন ড্রোন ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখান থেকেই স্পর্শকাতর টার্গেটে নির্ভুল আঘাত হানা হয়।”
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৮ জন নিহত ও ৩২৯ জন আহত হয়েছেন। তবে বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চলজুড়ে। সৌদি আরব, তুরস্কসহ একাধিক দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলা যদি আরও ব্যাপক রূপ নেয়, তবে তা শুধু ইসরায়েল ও ইরান নয়, বরং গোটা অঞ্চলকে এক ভয়াবহ সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।

মতামত দিন