আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানে ইসরায়েলের বিমান হামলা:ইরানের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ভোররাতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

শুক্রবার (১৩ জুন) স্থানীয় সময় ভোররাতে চালানো এই হামলায় রাজধানী তেহরানের আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক প্রাণহানিও ঘটেছে, তবে হতাহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

ইরানের আকাশসীমা বন্ধঃ

হামলার পরপরই ইরান সরকার দেশটির পূর্ণ আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থগিত রাখা হয়েছে তেহরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের বিমান চলাচল। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের অবস্থানঃ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের অভিযান তখনই শেষ হবে, যখন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াঃ

এই হামলা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের একমাত্র অগ্রাধিকার হলো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।” তিনি ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বাহিনীর ওপর হামলা হলে তার জবাব ভয়াবহ হবে।”

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পটভূমিঃ

হামলার সময়কাল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের হামলা শুধু সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে।

এদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

মতামত দিন