আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের ‘অত্যন্ত ভয়ংকর’ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা: সিএনএন বিশ্লেষক।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের নিরাপত্তা  বিশ্লেষক বেথ স্যানার মন্তব্য করেছেন, ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে ইরানের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।

সিএনএনের আলোচনায় তিনি বলেন, “ইসরায়েল যে ধরনের সামরিক ও নেতৃত্বস্তরের লক্ষ্যবস্তু বেছে নিয়েছে, তা থেকে বোঝা যায়—তারা এই সংঘাতকে পূর্ণ মাত্রায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত। এর পরিণতি খুবই বিস্ফোরক হতে পারে।”

স্যানার বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল একধরনের লাল রেখা অতিক্রম করেছে। “এটা এমন, যেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফকে হত্যা করা হয়েছে—এই ধরনের কৌশলিক হত্যার জবাব সাধারণত মারাত্মক হয়ে থাকে,” বলেন তিনি।

ইসরায়েলের এই হামলায় যেভাবে আবাসিক ভবনসহ সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে, তাতে ক্ষোভে ফুঁসছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফাজল শেখারচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে চরম মূল্য দিতে হবে।”

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে আলজাজিরা জানায়, শেখারচি দাবি করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে।”

এই হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতা জেনারেল হোসেইন সালামি, পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচি ও ফেরেদুন আব্বাসি এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাগেরি নিহত হয়েছেন বলে একাধিক ইরানি সূত্র জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার জেরে ইরান যে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা শুধু ইসরায়েলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং তা গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মতামত দিন