ইসরায়েলের দখলে গাজার জন্য ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে জানা যায়, সোমবার (৯ জুন) এ ঘটনার সময় জাহাজটিতে ১২ জন মানবাধিকারকর্মী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান, জার্মান, ফরাসি, ব্রাজিল, তুর্কি, স্পেনিশ ও ডাচ নাগরিকসহ একাধিক মানবাধিকারকর্মী।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জাহাজটির যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল ‘প্রচারণা চালানো’, এবং মানবিক সহায়তার ছায়ায় গণমাধ্যমে মনোযোগ কাড়ার অপচেষ্টা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা জাহাজটিকে ‘তারকাদের সেলফি ইয়ট’ বলে কটাক্ষ করে।
অন্যদিকে, ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজটি আটক করার পরই মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংস্থাটি এক ছবিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়, জাহাজের ভেতরে কর্মীরা হাত উঁচু করে বসে আছেন—সম্ভবত ইসরায়েলি সেনাদের প্রবেশের সময়কার দৃশ্য।
জাহাজটি ১ জুন ইতালির সিসিলির কাতানিয়া বন্দর থেকে রওনা হয়েছিল। এতে গাজাবাসীদের জন্য ছিল জরুরি খাদ্য ও স্বাস্থ্যসামগ্রী—চাল, ময়দা, শিশুদের দুধ ও ডায়াপার, স্যানিটারি পণ্য, পানি বিশুদ্ধকরণ কিট, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ক্রাচ ও কৃত্রিম অঙ্গ।
গাজার প্রথম নারী মৎস্যজীবীর নামে ‘ম্যাডলিন’ নামকরণ করা জাহাজটির উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছানো। গত ২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল, যার ফলে সেখানকার পরিস্থিতি চরম মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছে বেশ কয়েকটি শিশু।
বর্তমানে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানানো হচ্ছে—গাজায় বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করতে এবং আটক মানবাধিকারকর্মীদের মুক্তি দিতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে।
মতামত দিন