আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ঈদের দিনেও থামেনি গণহত্যা, শিশু–নারীসহ নিহত ১১৭।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও রেহাই মেলেনি গাজাবাসীর। একদিকে মানবিক বিপর্যয়, অন্যদিকে ইসরায়েলের লাগাতার বিমান ও স্থল হামলায় রক্তে রঞ্জিত হয়েছে ফিলিস্তিনের ঈদ।
ঈদের দিন ও তার পরদিন মিলিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৭ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের বড় অংশই নারী ও শিশু।

ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকাল থেকেই গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দফায় হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। ওই দিনই নিহত হন অন্তত ৪২ জন। পরদিন শুক্রবার (৭ জুন) হামলার মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সারা উপত্যকা জুড়ে চালানো বিমান হামলায় নিহত হন আরও ৭৫ জন। এদের মধ্যে গাজা সিটির সাবরা এলাকার একটি পরিবার থেকে একসঙ্গে মারা যান ১৬ জন, যাদের মধ্যে ৬ জনই শিশু।

রোববার (৮ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসেল জানান, বিমান হামলার আগে কোনো ধরনের সতর্কতা বা সাইরেন দেয়নি ইসরায়েল। ফলে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। শনিবারের হামলায় আটকে পড়া অন্তত ৮৫ জনকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

“পুরোপুরি ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে,” বলেন মাহমুদ। “নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।”

গাজা সিটির এক বাসিন্দা হামেদ কেহিল বলেন, “প্রতি বছর এই দিনে আমরা ঈদের জামাতে যেতাম, আত্মীয়দের বাড়ি ঘুরতাম। কিন্তু এবার সেই সকাল শুরু হয়েছে বোমার শব্দে। আমাদের সন্তানদের নতুন পোশাক নয়, আজ কফিনে মুড়িয়ে দাফন করতে হচ্ছে।”

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অবশ্য দাবি করেছে, তারা হামাসের সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেডের একজন কমান্ডার আসাদ আবু শারিয়াকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল। তাকে ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম সংগঠক হিসেবে উল্লেখ করেছে আইডিএফ।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের এক নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ১৭ মাসে এই হামলায় নিহত হয়েছেন ৫৪ হাজার ৬৭৭ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩০ জন। এদের ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

যদিও ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, কিন্তু মার্চ থেকে আবার শুরু হয় ব্যাপক বোমাবর্ষণ। বর্তমানে গাজায় না আছে নিরাপদ আশ্রয়, না আছে খাদ্য, পানি কিংবা চিকিৎসা। ঈদের দিন পর্যন্ত হামলা চালিয়ে ইসরায়েল প্রমাণ করেছে, মানবিকতা সেখানে কোনো জায়গা পায় না।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার মামলা চলমান থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু  স্পষ্ট করে দিয়েছেন—হামাসকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। আর তারই নির্মম ফল ভোগ করছে গাজার লাখো নিরপরাধ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।

মতামত দিন