রক্ত আর কান্নায় ঢাকা ঈদ: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দ্বিতীয় দিনেই নিহত অন্তত ৫০ জন|
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। গাজা শহরের সাবরা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে অন্তত ১৫ জনকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৬ জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন।
খান ইউনুসে আশ্রয়শিবিরে হামলা, একই পরিবারের ৪ জন নিহত:
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনুসে বাস্তুচ্যুতদের একটি আশ্রয়শিবিরে গোলাবর্ষণে এক পরিবারের চার সদস্যসহ প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন।
এছাড়া, গাজার পশ্চিমাংশে বাস্তুচ্যুতদের একটি বাড়িতে চালানো বিমান হামলায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়।
গাজা উত্তরের একাধিক এলাকায় বিমান ও কামান হামলা:
উত্তর গাজার আল-সাফতাওয়ি এলাকায় কামানের গোলায় নিহত হন ২ জন সাধারণ নাগরিক। জাবালিয়ার পশ্চিমে আবু শেখ এলাকায় একটি বেসামরিক সমাবেশে চালানো বিমান হামলায় নিহত হন ৩ জন। একই এলাকার আল-মুজায়দা স্টেশনের পাশে আরেকটি বাড়িতে হামলায় প্রাণ হারান এক শিশুসহ আরও ৩ জন।
ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ গেল আরও ৬ জনের:
রাফার পশ্চিমাঞ্চলে ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা, যাতে ৬ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। আনাদোলুর হিসাব অনুযায়ী, ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১১৫ জন, আহত হয়েছেন ৫৮০ জনের বেশি। এখনো নিখোঁজ ৯ জন।
গণহত্যার অব্যাহত ধারা, বিশ্ব নীরব:
এর আগে ঈদের প্রথম দিন শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন আরও ৩৩ জন। ধারাবাহিক এই গণহত্যামূলক অভিযানে গাজার চতুর্থ ঈদ রক্তে রঞ্জিত হলো। চলমান যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫৪ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন লক্ষাধিক, নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো গাজা; বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে একসময়ের প্রাণবন্ত অঞ্চলটি।
তবুও থেমে নেই গাজাবাসী। এক হাতে শহীদ সন্তানের লাশ, অন্য হাতে ঈদের প্রার্থনার দোয়া—এই দ্বন্দ্বই এখন তাদের বাস্তবতা। বিশ্ব যখন উৎসবের উচ্ছ্বাসে ডুবে, গাজা তখন রক্ত ঝরিয়ে লিখে চলেছে এক নিঃসীম নির্যাতনের ঈদের গল্প।
মতামত দিন