পাকিস্তানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে বাসায় ঢুকে গুলি করে হত্যা।
সুরাব জেলা প্রশাসনের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এটি ছিল রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ও জঘন্য আক্রমণ। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের নাম উল্লেখ না করলেও দাবি করেন, হামলাকারীরা ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করছে। ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথবাহিনী অভিযানে নামে এবং দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডন পত্রিকা সুরাব পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানানো হয়েছে শনিবার (৩১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ও খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ প্রদেশ বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদ দীর্ঘদিনের সমস্যা। স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে এই অঞ্চলে কয়েক দশক ধরেই সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন বেলুচ সংগঠন। এর সূচনা ঘটে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর। সেই সময়ের চারটি করদ রাজ্যের মধ্যে তিনটি পাকিস্তানে যোগ দিলেও কালাতের শাসক আহমেদ ইয়ার খান প্রথমে এতে রাজি হননি। যদিও ১৯৪৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানে যুক্ত হন,তার ভাই আগা আবদুল করিম খান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করেন।
বর্তমানে এই অঞ্চলে সবচেয়ে সক্রিয় স্বাধীনতাপন্থী সংগঠন হলো বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।সংগঠনটি নিয়মিতভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করে আসছে, ভারত এই ধরনের হামলার পেছনে রয়েছে এবং বিএলএ-কে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। গত মাসেও সেনাবাহিনীর আইএসপিআর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী একই অভিযোগ তুলেছিলেন।
বেলুচিস্তানের একটি অংশ ইরান ও আফগানিস্তানেও বিস্তৃত হওয়ায় সম্ভাব্য স্বাধীন বেলুচ রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী এই দুটি দেশও বিরোধিতা করে আসছে। ফলে আন্তর্জাতিক সমর্থনের অভাব, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও নেতৃত্ব সংকট—সব মিলিয়ে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলন বারবারই দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবুও সময় সময় ঘটে যাওয়া সহিংস হামলা অঞ্চলটির অনির্বাণ অস্থিরতারই সাক্ষ্য দেয়।
হিদায়াতুল্লাহ বুলেদির হত্যাকাণ্ড সেই চলমান দ্বন্দ্বের সাম্প্রতিক এবং রক্তাক্ত এক অধ্যায়।
মতামত দিন