স্টারশিপের নবম ফ্লাইটে ফের বিপর্যয়,উৎক্ষেপণের ৩০ মিনিটেই বিধ্বস্ত।
আন্তর্জাতিক,আজ বুধবার ২৮ মে ২০২৫:
স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত স্টারশিপ রকেটের নবম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে উৎক্ষেপণের মাত্র আধাঘণ্টা পরই রকেটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংস হয়।
আলজাজিরা ও রয়টার্সের খবরে জানা গেছে, মঙ্গলবারের উৎক্ষেপণটি ছিল মানুষবিহীন।উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পর রকেটটি ঘূর্ণায়মান হয়ে পড়ে এবং জ্বালানি লিকের কারণে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছানোর আগেই বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে বিস্ফোরিত হয়।
স্পেসএক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়,রকেটটিতে“র্যাপিড আনপ্ল্যানড ডিসঅ্যাসেম্বলি” বা অনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এটিকে ব্যর্থতা না বলে পরীক্ষার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেছে, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের সাফল্যের জন্য পথ দেখাবে। স্টারশিপকে মানুষের বহুপৃথিবীকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে স্পেসএক্স।
১২৩ মিটার বা ৪০৩ ফুট দীর্ঘ এই রকেটটি পূর্বের পরীক্ষা থেকে কিছুটা এগিয়ে যেতে সক্ষম হলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। উল্লেখ্য, এর আগেও ৬ মার্চে স্টারশিপের আরেকটি উৎক্ষেপণ সময়ের আগেই বিস্ফোরিত হয়েছিল।
ইলন মাস্কের নেতৃত্বে স্পেসএক্স এই স্টারশিপ কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। তার পরিকল্পনায় মঙ্গল গ্রহে মানুষ বসানো এবং নাসার সহযোগিতায় আবারও মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্পেসএক্স এবং নাসা যৌথভাবে কাজ করছে।
এদিকে, একের পর এক ব্যর্থ উৎক্ষেপণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় স্টারশিপের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ উৎক্ষেপণের সময় মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) মিয়ামি সহ চারটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
এখন পর্যন্ত স্টারশিপের মোট ৯টি সমন্বিত পরীক্ষামূলক ফ্লাইট সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চারটি আংশিক ভাবে সফল হলেও বাকিগুলো মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তবুও স্পেসএক্সের “ফেইল ফাস্ট, লার্ন ফাস্ট” নীতির অধীনে সংস্থাটি উন্নয়নের জন্য প্রতিটি ব্যর্থতাকে একটি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখছে।

মতামত দিন