আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ঋণের চাপে পরিবারসহ আত্মহত্যা, হরিয়ানায় গাড়ির ভেতর মিলল ৭ জনের মরদেহ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক,আজ মঙ্গলবার ২৭ মে ২০২৫:

ভারতের হরিয়ানার পঞ্চকুলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় গাড়ির ভেতর থেকে একই পরিবারের ছয় সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গাড়ির বাইরে থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও একজনকে, যিনি পরে হাসপাতালে মারা যান।

সোমবার (২৬ মে) রাতে পার্ক করা একটি গাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

নিহতরা হলেন প্রবীণ মিত্তল (৪২), তার বাবা-মা, স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্র। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষপান করে তারা আত্মহত্যা করেছেন। গাড়ির বাইরে বসা পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্যও জানান, ‘পরবর্তী পাঁচ মিনিটেই আমিও চলে যাব’। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ আর্থিক সংকট ও পাওনাদারদের চাপের কাহিনি। মৃত প্রবীণের মামাতো ভাই সন্দীপ জানিয়েছেন, হিমাচল প্রদেশে স্ক্র্যাপ কারখানার ব্যবসায় লোকসানের ফলে প্রবীণের পরিবার প্রায় ২০ কোটি রুপির ঋণে জড়িয়ে পড়ে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক তার কারখানা, গাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করে।

পাওনাদারদের টানা হুমকি ও হয়রানির মধ্যেই পরিবারটি হিসার ছেড়ে পঞ্চকুলায় চলে আসে।একপর্যায়ে তারা দেরাদুনেও অবস্থান করে। গত পাঁচ বছর তারা কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি বলেও জানান সন্দীপ।

প্রবীণ মিত্তলের ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধারের দাবি করেছে স্থানীয় পুলিশ, যেখানে স্পষ্টভাবে আত্মীয় সন্দীপকে শেষকৃত্যের দায়িত্ব দেওয়ার কথা লেখা আছে।

জানা যায়, দেনার দায়ে শেষমেশ প্রবীণ ট্যাক্সি চালানোর কাজ করতে শুরু করেছিলেন। তবে আর্থিক চাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় পরিবারটি একপ্রকার দিশেহারা হয়ে পড়ে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগেও তদন্ত শুরু করেছে।

এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি পরিবারের করুণ পরিণতি নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান ঋণ সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তার ভয়াবহ প্রতিফলন বলেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন