আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ত্রাণ নিরাপত্তা দলের ৬ সদস্য নিহত।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ত্রাণবাহী ট্রাক পাহারারত নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের (২২ মে) এই হামলায় নিহতরা সবাই একটি স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা ইউনিটের সদস্য ছিলেন, যারা সীমিত পরিসরে আসা ত্রাণসামগ্রী লুটপাটের হাত থেকে রক্ষা করতে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানিয়েছে হামাস।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানায়,অবরুদ্ধ গাজায় নিরাপদে ত্রাণ পৌঁছানো একাধারে মানবিক এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার রাতে গাজার অভ্যন্তরে ৭৫টি স্থানে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করা হয়েছে।তবে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা মার্চ থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৩০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন।কেরেম শালোম সীমান্তে ট্রাক আটকে রাখা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণে নিযুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জোট জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ১১৯টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লুটপাটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

সংস্থাগুলোর ভাষ্য, ত্রাণবাহী গাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং অস্ত্রধারী লুটপাটকারীদের কর্মকাণ্ডে গোটা সহায়তা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা জানায়, শিশু ও অনাহারে থাকা পরিবারগুলোর জন্য পাঠানো খাদ্যসামগ্রী বহু ক্ষেত্রেই ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের হত্যা এই সংকটকে আরও গভীর করছে বলে তারা মন্তব্য করে।

অন্যদিকে, হামাস দাবি করেছে, ইসরায়েলের ‘ত্রাণ আত্মসাতের’ অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং তাদের বহু যোদ্ধা জীবন দিয়েছে ত্রাণবাহী ট্রাকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে। হামাস আরও বলেছে,ইসরায়েলের কথিত ত্রাণ অনুমতির ঘোষণা আন্তর্জাতিক সমালোচনা এড়ানোর একটি প্রতারণামূলক কৌশল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জন গাজায় বন্দি হওয়ার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় একতরফা সামরিক অভিযান চালাতে থাকে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৩ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে,গাজার বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন চরম খাদ্যাভাব,ওষুধ সংকট ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। বহু শিশুর মধ্যে তীব্র অপুষ্টির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে অবরুদ্ধ গাজায় একটি ‘নিরাপদ ও কার্যকর মানবিক করিডর’ গঠনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

ত্রাণ পরিবহনে নিয়োজিতদের ওপর হামলার ঘটনায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে এবং গাজায় ত্রাণ সহায়তার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মতামত দিন