গাজায় মানবিক সংকট চরমে, অল্প ত্রাণে মেটানো যাচ্ছে না খাবারের চাহিদা।
গাজা উপত্যকায় সীমিত আকারে ত্রাণ প্রবেশ করলেও বাস্তবে ক্ষুধা ও অনাহারে ভুগছে প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি। গত কয়েকদিনে কিছু ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও, সেগুলোর সঠিক বিতরণ না হওয়ায় অধিকাংশ বাসিন্দার হাতেই পৌঁছাচ্ছে না খাদ্য ও পানি।
গাজার উত্তরে অবস্থান করা এসরাহ শাহিন জানান, অবস্থা এখন ‘খুবই কঠিন’। তিনি বলেন, “বিপদের শেষ নেই, প্রতিনিয়ত বোমাবর্ষণ চলছে। এতদিন থেকে গাজায় থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও এখন মনে হচ্ছে, আর থাকা সম্ভব না। আমাদের সরে যেতেই হবে।”
ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর গাজা উপত্যকার ভেতরের তথ্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপের মতো বার্তাব্যবস্থাই হয়ে উঠেছে অন্যতম মাধ্যম। কারণ, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।শুধুমাত্র ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করার অনুমতি পাচ্ছেন হাতে গোনা কয়েকজন।
গাজায় কর্মরত মানবিক সংস্থা ‘অ্যাকশন ফর হিউম্যানিটি’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হানিয়া আলজামাল জানান, বুধবার থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ত্রাণ ট্রাক প্রবেশ করছে। অথচ প্রতিদিন প্রয়োজন ৫০০-৬০০টি ট্রাক। তিনি বলেন, “৮০ দিন ধরে অবরোধ চলার পর এই সংখ্যক ত্রাণ আসা মূলত কিছুই না।” এমনকি তার নিজ এলাকা দেইর আল-বালাহতেও এখনও কোনো সহায়তা পৌঁছেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আলজামাল জানান, যেসব ট্রাকে ময়দা এসেছে,তা দিয়ে বেকারিগুলোতে রুটি বানানোর কথা থাকলেও বাস্তবে বিতরণকেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ ভিড়। “মানুষ এখন শুধু বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে,”—বলেন তিনি।
এই মানবিক সংকটের ফলে গাজার অধিকাংশ পরিবার দিনে একবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, তাও প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে অনেক দূরে। ৮০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এখন চরমে।
মতামত দিন