আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতা, জুনেই আসছে ১৩০ কোটি ডলার।
দীর্ঘ আলোচনা ও টানাপড়েনের পর আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হয়েছে। প্রধান দুটি শর্তে আংশিক সম্মত হয়ে সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ঋণের আরও দুটি কিস্তিতে ১৩০ কোটি ডলার পেতে যাচ্ছে।
সরকার ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার আরও নমনীয় করতে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কারে সম্মত হয়েছে। এতে ক্রলিং পেগ পদ্ধতির আওতায় ডলারের দাম আরও বাড়তে পারে,যা টাকার মান হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ এরই মধ্যে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি থেকে তিন কিস্তিতে ১৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। চতুর্থ কিস্তি পাওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে, কিন্তু শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় তা স্থগিত রাখা হয়। পরে তা ফেব্রুয়ারি, এরপর মার্চে নেয়ার কথা থাকলেও সমঝোতা না হওয়ায় কিস্তি ছাড় হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে এবং অনলাইন বৈঠকগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে দুপক্ষ কিছুটা ছাড় দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়।
আইএমএফ ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে বিদ্যমান ক্রলিং পেগ পদ্ধতি আরও শিথিল করার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর তাড়না থেকে সরে এসে এনবিআর সংস্কারের দিকে জোর দেয়। এসব প্রস্তাবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে সম্মতি দেওয়া হয়।
সরকার ইতোমধ্যে এনবিআরে কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। এনবিআরকে ভেঙে দুটি পৃথক সংস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে—একটি কর নীতি প্রণয়ন করবে,অন্যটি কর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে।সরকারের আশা, এতে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তবায়নও হবে।
বর্তমানে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে ডলারের মধ্য দর ১১৯ টাকা,যার সঙ্গে আড়াই শতাংশ ওঠানামা করতে পারে। এর ফলে সর্বোচ্চ দর দাঁড়ায় ১২২ টাকা। এই দরে এখনই বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবিত নমনীয়তায় ওঠানামার সীমা বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হলে ডলারের সর্বোচ্চ দর হতে পারে ১২৩ টাকা ৭৬ পয়সা, আর সর্বনিম্ন ১১৪ টাকা ২৪ পয়সা। যদিও বাস্তব পরিস্থিতিতে ডলারের দর কমে না, বরং বাড়তে থাকে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাতে পারে।এতে ব্যাংকের গভর্নর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অনলাইনে যুক্ত হবেন। তিনি পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার আলোচনায় অংশ নিতে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, এ ঋণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে না। বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কারণ,আইএমএফ ঋণ অনুমোদন মানেই একটি অর্থনীতি স্থিতিশীল পথেই রয়েছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে বিবেচিত হয়। যদিও বিনিময় হার নমনীয় করা হবে,তবু বাজারে ডলারের মূল্য অতিমাত্রায় বাড়তে দেওয়া হবে না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। কারণ, বর্তমানে বাজারে ডলারের প্রবাহ পর্যাপ্ত রয়েছে।
মতামত দিন