অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

রিজার্ভ চুরি মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা পিছোল ৯৩তমবার।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশের আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় আবারও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর ফলে মামলাটিতে প্রতিবেদন জমা পিছোল মোট ৯৩ বার।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে প্রতিবেদন জমার নির্ধারিত তারিখ ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি–এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জালিয়াতির মাধ্যমে সুইফট কোড ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর হিসাবে থাকা ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই অর্থের বড় অংশ ফিলিপাইনে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা ছিল, দেশের ভেতরের কোনো চক্রের সহায়তায় এই অর্থ পাচার সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর ওই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় শুরুতে কাউকে আসামি করা হয়নি।

চুরি হওয়া অর্থের বেশিরভাগ ফিলিপাইনের স্থানীয় মুদ্রা পেসোতে রূপান্তর হয়ে আটটি ক্যাসিনোয় ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশকে ফেরত দেয়, তবে বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আর উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

ঘটনার তিন বছর পর অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হিসেবে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট–এ মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত জানায়, মামলাটি বিচারের এখতিয়ার তাদের নেই এবং তা খারিজ করে দেয়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতে নতুন করে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানানো হয়েছিল।

মতামত দিন