অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

নতুন ছাপানো টাকায় সরকারের ঋণ ১৩০৯ কোটি টাকা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বাড়তে থাকায় অর্থ ব্যবস্থাপনায় চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতেও এখন আর্থিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে।

এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় নতুন টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন টাকা বাজারে প্রবাহিত হওয়ায় অর্থের জোগান বাড়ছে, যার প্রভাবে পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় প্রায় ১ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নিয়মিত কাজ পরিচালনায় প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ প্রয়োজন হয়। কোনো খাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে সেখান থেকেই ব্যয় করা হয়। কিন্তু ঘাটতি দেখা দিলে প্রথমে সরকারি ব্যাংকগুলো সাময়িক সহায়তা দেয়। দিনশেষে হিসাব মিলিয়ে ঘাটতি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ অস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ করা হয়। রাজস্ব আদায় বাড়লে পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা, কিন্তু সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কম আদায় হয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের বাইরের উৎস থেকেও প্রত্যাশিত আয় আসেনি।

অন্যদিকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজেটের চাপ আরও বেড়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি অর্থসংস্থানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী হিসাবে নেওয়া ঋণের স্থিতি ৭ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকায় পৌঁছালেও তা এখনো নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য খাত মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ডিসেম্বর নাগাদ প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। জুনে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। গত ছয় মাসে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করায় মোট বকেয়া কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মতামত দিন