নির্বাচনী ব্যস্ততায় করদাতাদের স্বস্তি: আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর পথে এনবিআর।
ভোটের মাঠ গরম, প্রশাসন ব্যস্ত—এই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করদাতাদের ওপর শেষ মুহূর্তের চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারি রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। তবে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি অনুযায়ী, এই সময় এক মাস বাড়িয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, কর অফিস এবং ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যাপক ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে। ফলে বহু করদাতা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন না। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সময় বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর আগেও চলতি করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় দুই দফায় বাড়ানো হয়। সম্প্রতি একাধিক আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান স্পষ্ট করেন, শেষ সময়ে জমা দেওয়ার হার সন্তোষজনক না হলে সময় বাড়ানোর বিকল্প খোলা থাকবে।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য নিবন্ধন করলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দেননি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধন করা করদাতার সংখ্যা প্রায় ৪৭ লাখ হলেও রিটার্ন জমা পড়েছে প্রায় ৩৪ লাখ। এই ব্যবধানই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বড় কারণ হয়ে উঠছে।
আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে চলতি বছর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় ইতোমধ্যে দুই মাস ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সময় বাড়ানো হলে সেটি হবে তৃতীয় দফা।
কর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানার পাশাপাশি কর রেয়াতসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই বাড়তি সময় পেলেও করদাতাদের দেরি না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মতামত দিন