ইতিহাসে প্রথমবার ৫ হাজার ডলার ছাড়াল স্বর্ণ।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ঝোঁকের ফলে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের মূল্য ৫ হাজার ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার লেনদেনে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৮১ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের একপর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটির দাম আরও বেড়ে ৫ হাজার ৯২ দশমিক ৭১ ডলারেও পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির সোনার ফিউচার্সের দামও একই প্রবণতা অনুসরণ করে ২ শতাংশের বেশি বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৭৯ দশমিক ৩০ ডলারে ওঠে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোটামুটি ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। শুধু চলতি বছরেই মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ শতাংশের বেশি। মার্কিন মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক স্বর্ণ ক্রয়, চীনের রেকর্ড পরিমাণ আমদানি এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগ বৃদ্ধিই এই ঊর্ধ্বগতির মূল চালিকাশক্তি।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও ডলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাহীনতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত ও হঠাৎ সিদ্ধান্তগুলো বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসা, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে কড়া বক্তব্য এবং ফ্রান্সের মদ ও শ্যাম্পেইনে উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকির মতো পদক্ষেপগুলো এই অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, স্বর্ণের দামে আরও ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। যদিও মুনাফা তুলে নেওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে দাম কমতে পারে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। রুপার দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১০৮ দশমিক ৯১ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে।
মতামত দিন