ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দরে বড় পতন,দাম নামল প্রায় ২ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও নিম্নমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলবাজারে।
বৃহস্পতিবার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় আড়াই শতাংশ কমে ৬৪ ডলারের ঘরে নেমে আসে। একই প্রবণতা দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের বাজারেও।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ফিউচার কমেছে ১ দশমিক ৬৭ ডলার, যা শতাংশের হিসাবে ২ দশমিক ৫। এতে দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ দশমিক ৮৫ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ১ দশমিক ৫৪ ডলার কমে লেনদেন হয়েছে ৬০ দশমিক ৪৮ ডলারে।
এর আগের দিন উভয় সূচকেই এক শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর সেই ঊর্ধ্বগতি টেকেনি। ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ইঙ্গিত দেন যে, সেখানে দমন-পীড়নের মাত্রা কমেছে এবং বড় পরিসরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনার লক্ষণ নেই। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও আপাতত কমেছে।
নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেন, সামরিক সংঘাত এড়ানো যাবে—এমন ধারণা তৈরি হওয়ায় তেল বিক্রির চাপ বেড়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বাড়ায় বাজারে নেতিবাচক মনোভাব আরও জোরালো হয়েছে।
তিনি জানান, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। হঠাৎ কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা সরবরাহ ব্যবস্থায় ধাক্কা দিতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৫ থেকে ৬৫ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতায় তেল উৎপাদন কৌশলে পরিবর্তন আনছে—এ বিষয়টিও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
চাহিদার দিক থেকে ওপেক জানিয়েছে, ২০২৭ সালেও তেলের বৈশ্বিক চাহিদা ২০২৬ সালের মতোই স্থিতিশীল হারে বাড়তে পারে। এতে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় থাকার ইঙ্গিত মিলছে, যা অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে চীন থেকে এসেছে চাহিদা বৃদ্ধির ইতিবাচক বার্তা। সরকারি হিসাব বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। পুরো ২০২৫ সালজুড়ে আমদানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। দৈনিক আমদানির গড় পরিমাণও ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মতামত দিন