অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

মাদুরো ইস্যুতে বাজার অচল নয়, তেলের দামে দেখা গেল স্থিরতার বার্তা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এখন সিদ্ধান্ত আসে টার্মিনাল স্ক্রিন থেকে, প্রেস ব্রিফিং থেকে নয়। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিলেও তেলের দামে তার প্রতিফলন প্রায় অদৃশ্যই থেকে গেছে।

শনিবার লেনদেন শেষে দেখা যায়, প্রধান দুই বেঞ্চমার্কেই হালকা দরপতন। বাজার পর্যবেক্ষণ সূত্র জানায়, ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের ঘরেই ঘোরাফেরা করছে, আর ডব্লিউটিআই রয়েছে ৫৭ ডলারের কাছাকাছি। দিনজুড়ে অন্যান্য তেলজাত পণ্যের দরও একই প্রবণতায় ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেলের বাজারকে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কেবল বড় সরবরাহ বিঘ্নের। আলাদা কোনো দেশের রাজনৈতিক সংকট এখন আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বাড়ায় না। কারণ উৎপাদন, মজুত ও পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিনিয়োগকারীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।

ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এই নৌপথ দিয়েই বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবাহিত হয়। সেখানে বাধা সৃষ্টি হলে বাজারে তাৎক্ষণিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ভেনেজুয়েলা এখন গেম–চেঞ্জার নয়

বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রমাণিত তেল মজুতের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বাস্তবতায় অনেক পিছিয়ে। দৈনিক উৎপাদন এক মিলিয়নের সামান্য বেশি, যার বড় অংশ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বৈশ্বিক সরবরাহে দেশটির অবদান বর্তমানে এক শতাংশেরও কম।

এই সীমিত ভূমিকাই ব্যাখ্যা করে কেন মাদুরোকে ঘিরে বড় রাজনৈতিক ঘটনার পরও তেলের বাজারে বড় কোনো দোলাচল দেখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠলেও পরের বছর থেকেই বাজার ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে শুরু করে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে চীনের অর্থনৈতিক গতি শ্লথ হয়ে যাওয়া, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদায়।

মতামত দিন