আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী, পৌঁছে গেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একেবারে কাছাকাছি। মার্কিন ডলারের টানা দুর্বলতা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ইঙ্গিত এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক আট শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৮২ ডলারের বেশি। লেনদেনের একপর্যায়ে দাম উঠে যায় ৪ হাজার ৪৯৭ ডলারের ঘরে, যা মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৪ হাজার ৫০০ ডলারের সীমা ছুঁইছুঁই। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচার্সের মূল্য প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১৪ ডলারে পৌঁছায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতির অনিশ্চয়তা স্বর্ণের দামে বড় প্রভাব ফেলছে। সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাসা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নিয়মিত স্বর্ণ ক্রয়, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ডলারের দুর্বলতা মিলিয়ে স্বর্ণ এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মার্কিন ডলার সূচক টানা দ্বিতীয় দিন কমেছে এবং দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের পথে রয়েছে। সাধারণত ডলারের মান কমলে স্বর্ণসহ ডলারভিত্তিক পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে চাপ তৈরি করছে। ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তেও—ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ খাতে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দামে আরও ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
মতামত দিন